নিউজ ডেস্ক।।
ছবিঃ সংগৃহীত
প্রথমবারের মতো উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচল করল মেট্রোরেল। রোববার (১২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় আগারগাঁও রেল স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি। তবে এতে কোনো যাত্রী ছিল না।
এর আগে সকাল ৯টা ৩৯ মিনিটে উত্তরার দিয়াবাড়ি রেল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে মেট্রো ট্রেনটি।
ট্রেনটি আসার আগে থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা তিন তলা সমান উঁচু আগারগাঁও রেলস্টেশনে অবস্থান করেন। সর্বোচ্চ ১৫ কিলোমিটার গতিতে ট্রেনটি দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও রেল স্টেশনে পৌঁছায়। পথে ৯টি স্টেশন অতিক্রম করে ট্রেনটি। কোনো কোনো স্থানে ট্রেনের গতি ছিল ১৫ কিলোমিটারেরও কম।
পরীক্ষামূলক এ চলাচলের আগেই রেললাইন, বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন ও স্টেশনের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করা হয়। আজকের মেট্রোরেলের মূল অনুষ্ঠান হবে আগারগাঁও স্টেশনে।
দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। সাড়ে তিন মাস আগে টেস্ট রান শুরু হলেও এতদিন ট্রেন চলাচল দিয়াবাড়ি থেকে কাছাকাছি চার-পাঁচটি স্টেশনে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ৯- এ পৌঁছাতে যাচ্ছে।
মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, ট্রেনের পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য উড়াল রেলপথ, বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন এবং স্টেশনের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ দিয়াবাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করবে মেট্রো ট্রেন। এটি আগারগাঁও পৌঁছাবে বেলা এগারোটার দিকে।
২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার উড়াল রেলপথে ট্রেন চলাচল করবে বাণিজ্যিকভিত্তিতে। তবে এর আগে নির্মিত রেলপথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে ধাপে ধাপে ট্রেন চালানো হচ্ছে।
দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ হচ্ছে রাজধানী ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রুটে ট্রেন চলাচল করবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ রুটে ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে।
পাঁচ থেকে ১০ মিনিট অন্তর ট্রেন ছেড়ে যাবে। রেলস্টেশন থাকবে সবমিলে ১৬টি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর যানজট অনেকাংশেই কমে যাবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এক নজরে মেট্রোরেল প্রকল্প
সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মেট্রোরেল ব্যবস্থাকে ম্যাস র্যাতপিড ট্রানজিট (এমআরটি) নামে একটি কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে সরকার। অতি জনবহুল ঢাকা মহানগরীর ক্রমবর্ধমান যানবাহন সমস্যা ও পথের দুঃসহ যানজট কমিয়ে আনতে এমআরটি স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়।
২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ‘মেট্রোরেল প্রকল্প’ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন লাভ করে। ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রকল্প ঋণ ৭৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ২৫ শতাংশ। ২০১৬ থেকে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু হয়।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১৬ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা। বাকি পাঁচ হাজার ৩৯০ কোটি টাকার জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। মেট্রোরেল প্রকল্প লাইনের পুরো কাজ আটটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে।
রুট ও স্টেশন
সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মেট্রোরেলের চূড়ান্ত রুট হচ্ছে উত্তরা তৃতীয় ধাপ-পল্লবী, রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ দিয়ে (চন্দ্রিমা উদ্যান-সংসদ ভবন) খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেট-সোনারগাঁও হোটেল-শাহবাগ-টিএসসি-দোয়েল চত্বর-তোপখানা রোড থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত। সম্পূর্ণ রুটের ১৬টি স্টেশন থাকছেএগুলো হচ্ছে- উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপু-১১, মিরপুর সেকশন-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল। ট্রেন চালানোর জন্য বিদ্যুৎ নেওয়া হবে জাতীয় গ্রিড থেকে। ঘণ্টায় দরকার হবে ১৩ দশমিক ৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর জন্য উত্তরা, পল্লবী, তালতলা, সোনারগাঁ ও বাংলা একাডেমি এলাকায় পাঁচটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থাকবে।
মেট্রোরেলের ট্রায়াল-রান
গত ১১ মে মেট্রোরেলের ট্রায়াল-রান করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেট্রোরেলের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত, জাইকার প্রতিনিধি ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
Leave a Reply